Null


ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ!

আলোড়ন কাফেলা
#আজ ১৭-ই রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস
আলোড়ন ডেস্ক:
 বদর যুদ্ধ ছিল ইসলামের ইতিহাসের সর্বপ্রথম যুদ্ধ। এ যুদ্ধে প্রায় এক হাজার কাফেরদের মোকাবিলা করেছিলেন রাসুলে পাক (ﷺ) এর মাত্র ৩১৩ জন সাহাবা। ছিল না কোনো সুসজ্জিত অস্ত্র কিন্তু সাথে ছিল ঈমানী বল আর সরকারে মুস্তাফা(ﷺ) এর প্রতি অগাধ ভালবাসা। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পরিষ্কার ছিল এ যুদ্ধের নকশা। তিনি বলে দিয়েছিলেন, কোথায় মরবে আবু জাহেল, উতবা ও সায়বা।
এ যুদ্ধে সর্বমোট শহিদ হন ১৪ জন সাহাবা অন্যদিকে ৭০ জন কাফিরকে হত্যা ও ৭০ জনকে বন্দী করা হয়।
বদরের যুদ্ধে মহান আল্লাহ তাআলা সরাসরি ফেরাস্তা প্রেরণের মাধ্যমে মুসলমানদের সাহায্য করেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনুল করিমে এরশাদ হচ্ছে,
'‘বদরের যুদ্ধে যখন তোমরা হীনবল ছিলে, আল্লাহ তো তোমাদের সাহায্য করেছিলেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাতে
তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’'

(সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১২৩-১২৫)

কঠিন বিপদেও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং নির্ভর করাই হলো বদর দিবসের শিক্ষা।

বদরের যুদ্ধে শহীদ সাহাবাদের নামঃ

১. হযরত ওবায়দা ইবনে হারিছ (রাঃ) - মোহাজের।
২. হযরত ওমায়ের ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) - মোহাজের।
৩. হযরত যুশ-শিমালাইন (রাঃ) - মোহাজের।
৪. হযরত আকিল ইবনে বুকাইল (রাঃ) - মোহাজের।
৫. হযরত মাহজা ইবনে সালেহ (রাঃ)- মোহাজের।
৬. হযরত সাফওয়ান ইবনে বায়দা (রাঃ) - মোহাজের।
৭. হযরত সাদ ইবনে খায়সামা (রাঃ) - আনসার।
৮. হযরত মুবাশ্বর ইবনে আবদুল মুনযির (রাঃ) - আনসার।
৯. হযরত ওমায়ের ইবনে হুমাম (রাঃ) - আনসার।
১০. হযরত ইয়াযিদ ইবনে হারিছ (রাঃ) - আনসার।
১১. হযরত রাফি ইবনে মুয়াল্লাহ (রাঃ) - আনসার।
১২. হযরত হারিছা ইবনে সুরাকা (রাঃ) - আনসার।
১৩. হযরত আওফ ইবনে হারিছ (রাঃ) - আনসার।
১৪. হযরত মুআওবিয ইবনে হারিছ (রাঃ) - আনসার।

                    ______এই যুদ্ধে মুসলিম পক্ষে ৬জন মুহাজির ও ৮ জন আনছার শহীদ হন। কাফের পক্ষে ৭০ জন নিহত ও ৭০ জন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বন্দী হয়। তাদের বড় বড় ২৪ জন নেতাকে বদরের একটি পরিত্যক্ত দুর্গন্ধময় কূপে (القليب) নিক্ষেপ করা হয়। তাদের মধ্যে হিজরতের প্রাক্কালে মক্কায় রাসূল'কে হত্যার ষড়যন্ত্রকারী আবু জাহেল সহ ১৪ নেতার ১১ জন এই যুদ্ধে নিহত হয়। বাকী তিনজন আবু সুফিয়ান, জুবায়ের বিন মুতব‘ইম ও হাকীম বিন হেযাম পরে মুসলমান হন।

যুদ্ধ শেষে রাসূলাল্লাহ (ﷺ) বদরে তিনদিন অবস্থান করেন। রাসূলাল্লাহ (ﷺ) সব মাল তার নিকটে জমা করতে বলেন। অতঃপর বদর থেকে রওয়ানা দিয়ে ছাফরা (الصفراء) গিরি সংকট অতিক্রম করে একটি টিলার উপরে গিয়ে বিশ্রাম করেন এবং সেখানে বসে গনীমতের সমস্ত মালের এক পঞ্চমাংশ বের করে নিয়ে বাকী মাল সৈন্যদের মধ্যে সমভাবে বণ্টন করে দেন।

রাসূল (ﷺ)-এর আগমনের একদিন পরে বন্দীদের কাফেলা মদীনায় পৌছে। রাসূলাল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে সাহাবীগণের মধ্যে বণ্টন করে দেন এবং তাদের সাথে উত্তম ব্যবহারের আদেশ দেন। তাঁর নির্দেশ যথাযথভাবে পালিত হয় এবং সাহাবীগণ নিজেরা খেজুর খেয়ে বন্দীদের রুটি খাওয়ান। কেননা ঐ সময় মদীনায় খেজুর ছিল সাধারণ খাদ্য এবং রুটি ছিল মূল্যবান খাদ্য। অতঃপর তিনি সাহাবীগণের সাথে পরামর্শ করেন। আবুবকর (রাঃ) তাদেরকে রক্তমূল্য নিয়ে ছেড়ে দিতে বলেন। কেননা এর ফলে কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের হেদায়াত নছীব করতে পারেন এবং তারা আমাদের জন্য সাহায্যকারী হ’তে পারে। কিন্তু ওমর ফারূক (রাঃ) স্ব স্ব আত্মীয়'কে স্ব স্ব হস্তে হত্যা করার পরামর্শ দেন। দয়ার নবী আবু বকরের পরামর্শ গ্রহণ করলেন এবং অধিকাংশ বন্দীকে রক্তমূল্য নিয়ে ছেড়ে দেন। আবুল ‘আছ সহ কয়েকজনকে রক্তমূল্য ছাড়াই মুক্তি দেন। আবুল ‘আছ ছিল খাদীজার সহোদর বোনের ছেলে এবং রাসূল কন্যা যয়নবের স্বামী। কয়েকজনকে মাথা প্রতি ১০ জনকে লেখাপড়া শিখানোর বিনিময়ে মদীনাতেই রেখে দেন। তাদের মেয়াদ ছিল উত্তম রূপে পড়া ও লেখা শিক্ষা দান করা পর্যন্ত। এর দ্বারা শিক্ষা বিস্তারের প্রতি রাসূলের আকুল আগ্রহের প্রমাণ মেলে। যা কোন যুদ্ধবন্দী বিনিময়ের ইতিহাসে নযীর বিহীন।

[দুই ছোট্ট শিশু আশেকে রসুলের বীরত্ব গাথাঁ কাহিনী]
====================================
                             
চাচাঁ হুজুর ( আবদুর রহমান বিন অউফ রাঃ) শত্রু বাহিনীর আবু জাহেলকে আপনি কি চিনেন ? ঐ যে আবু জাহেল যিনি ঘোড়ার উপর সওয়ার ৷ কেন বাপু ? কারন সে নাকি আমার নবীজীকে গালি দেয় ৷ তো ? আমরা চাইনা সে আর নবীজীকে গালি দেওয়ার জন্য পৃথিবীতে জীবীত থাকুক ৷ হযরত আবদুর রহমান বিন অউফ রাঃ অবাক ৷ কিন্তু তোমরা সাত আট বৎসরের দুই ছোট্ট শিশু ৷ অথচ সে এক পলোয়ান ? শত্রু বাহিনীর ভিড়ে দৌড় মারলেন দুই ভাই ৷ বাঝঁ পাখির শিকারির মত উপর্যুপরি হামলা শুরু করে দিলেন আবু জাহেলের উপর ৷ এক পর্যায়ে আবু জাহেল ঘোড়া থেকে নিচে পরে যায় ৷ পরক্ষনে আবু জাহেল পুত্র ইকরামা ইবনে আবু জাহেল ( যিনি পরে সাহাবী ) পিছন থেকে হামলা করে বসলেন হযরত মুয়াজ রাঃ এর উপর ৷ প্রায় হাত কেটে শরিরের সাথে লটকে যায় ৷ মুয়াজ রাঃ এর ভাই মায়াজ রাঃ ভাইয়ের এই অবস্তা দেখে ইকরামা বিন আবু জাহেলের উপর তলোয়ার মাধ্যমে হামলা শুরু করে দিয়ে ময়দানে বদরে দৌড়াতে লাগলেন ৷ আর এই দিকে মুয়াজ রাঃ লটকে থাকা হাতের উপর পা রেখে শরির থেকে নিজের হাতকে আলাদা করে ফেলেন ৷ বাকি এক হাত দিয়ে পূণরায় হামলা শুরু করে দিলেন আবু জাহেলের উপর ৷ ততক্ষন পর্য্যন্ত যতক্ষন না জাহান্নামে পৌছে না দিলেন আবু জাহেলকে ৷ ছোবহানাল্লাহ ৷ আমাদের জীবন কোরবান আশেকে রসুল এশকে মুয়াজ ও মায়াজ রাঃ এর উপর ৷ মুয়াজ রাঃ এর হাতের এই অবস্তা অবলোকন করে জানে দো'আলম নুরে মোজাচ্ছম ফখরে বনি আদম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আলাদা হয়ে যাওয়া হাতের মধ্য থুথু মোবারক লাগিয়ে শরিরের সাথে জোড়া লাগিয়ে দিলেন ৷ পূনরায় ছোবহানাল্লাহ ৷ সবাই দোয়া করুন আল্লাহ আমাদের অন্তরে যেন হযরত মুয়াজ রাঃ ও হযরত মায়াজ রাঃ এর মত মহব্বতে রসুল সৃস্টি করে দেয় এবং বদরী সাহাবীদের উসিলায় কবুল করে ৷
হে আল্লাহ! আজকের এই বিশেষ দিনে আপনার প্রিয় হাবীব ﷺ ও বদরী সাহাবাদের উসিলায় আমাদেরকে ক্ষমা করুন।

#আমিন!  


Comments

Archive

Contact Form

Send